Monday, 24 March 2014


আল্লাহ কেন সকল মানুষকে মুসলিম হতে বাধ্য করেন নি?

লেখকঃ মুহাম্মাদ ইসহাক খান

এ বিষয়টি নিয়ে অনেকের মাঝেই কিছুটা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেক মুসলিম ভাইকেও অনেক সময় বলতে শোনা যায়, ‘তাহলে আল্লাহ কি চাইলে সবাইকে মুসলিম বানাতে পারতেন না?’ আমরাও তখন অজ্ঞতার কারণে সাথে সাথে বলি, ‘আসলেই তো!’ সুতরাং আল্লাহই যেহেতু মানুষকে বিভিন্ন ধর্ম গ্রহণের কিংবা ভিন্ন মত অবলম্বনের অনুমতি বা সুযোগ দিয়েছেন তাহলে আমরা কেনো তাদেরকে ইসলামের কথা বলতে যাবো? এক্ষেত্রে অনেকে একধাপ এগিয়ে সুরায়ে কাফিরুনের মূল অংশ গুলো বাদ দিয়ে কেবলমাত্র বিচ্ছিন্নভাবে শেষ আয়াতটি উল্লেখ করে পান্ডিত্য ঝাড়েন। বলেন দেখেন আল্লাহই সূরায়ে কাফিরুনে বলেছেন, ‘তোমার ধর্ম তোমার, আমার ধর্ম আমার।’ এই কথা বলে তারা মারাত্মক দু’টি অন্যায় করেন। এক, পুরো সূরার মূলভাবকে গোপন করে বিচ্ছিন্নভাবে কেবলমাত্র শেষের আয়াতটিকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা। আর শেষের আয়াতে মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ শব্দ ‘দীন’ শব্দের স্থলে ‘ধর্ম’ শব্দ বসিয়ে নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিল করতে চান। অথচ সূরায়ে কাফিরুনের পুরোটা পড়লে তাদের অসৎ উদ্দেশ্য নষ্ট হতে বাধ্য। এ নিয়ে বিস্তারিত অন্য সময় আলোচনা করা যাবে। এ ব্যাপারে আজ শুধু পুরো সূরাটি উল্লেখ করে দিচ্ছি।

“হে নবী আপনি বলুন, হে কাফির সম্প্রদায়। তোমরা যার ইবাদাত কর আমি তারইবাদাত করি না। এবং আমি যার ইবাদাত করি তোমরা তার ইবাদাতকারী নও। আর তোমরা যার ইবাদত করছ আমি তার ‘ইবাদাতকারী হব না। আর আমি যার ইবাদাত করি তোমরা তার ইবাদাতকারী হবে না। তোমাদের জন্য তোমাদের দীন আর আমার জন্য আমার দীন।” (সূরা কাফিরুন ১০৯, আয়াত ০৬)

এবার আসল কথায় আসা যাক। কাউকে কোনো কাজে বাধ্য না করা আর তাকে অন্যায় করতে সুযোগ দেয়া এক কথা নয়।একমাত্র জিন ও মানুষ ছাড়া এই মহাবিশ্বের আসমান, যমীন, পাহাড়, সাগর, চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ-নক্ষত্র, নিহাড়িকাপুঞ্জসহ সকল সৃষ্টি প্রকৃতিগতভাবেই মহান আল্লাহর পুরোপুরি অনুগত। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ
বলেন,

أَفَغَيْرَ دِينِ اللَّهِ يَبْغُونَ وَلَهُ أَسْلَمَ مَنْ فِي
السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ طَوْعًا وَكَرْهًا وَإِلَيْهِ يُرْجَعُونَ.

অর্থ: “তারা কি আল্লাহ্র দ্বীনের পরিবর্তে অন্য দ্বীন তালাশ করছে? অথচ আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে স্বেচ্ছায় হোক বা অনিচছায় হোক, সব সৃষ্টি একমাত্র আল্লাহরই অনুগত হয়ে মুসলিম হয়ে গেছে এবং তাঁর দিকেই সবাই ফিরে যাবে। (সূরা আল ইমরান : আয়াত ৮৩)

এই সকল সৃষ্টির কোনো একটি সামান্যতমও ব্যতিক্রম করে না। মহান আল্লাহর নির্দেশনার বাইরে যায় না। প্রত্যেকটি সৃষ্টি তার জন্য মহান আল্লাহ কর্তৃক বেঁধে দেয়া নির্ধারিত নিয়ম ও বিধান অনুযায়ী চলে। নির্দিষ্ট দায়িত্ব যথাযথভাবে আদায় করে। ইরশাদ হয়েছে,

وَالشَّمْسُ تَجْرِي لِمُسْتَقَرٍّ لَهَا ذَلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ

الْعَلِيمِ. وَالْقَمَرَ قَدَّرْنَاهُ مَنَازِلَ حَتَّى عَادَ كَالْعُرْجُونِ

الْقَدِيمِ. لا الشَّمْسُ يَنْبَغِي لَهَا أَنْ تُدْرِكَ الْقَمَرَ وَلا اللَّيْلُ

سَابِقُ النَّهَارِ وَكُلٌّ فِي فَلَكٍ يَسْبَحُونَ.

অর্থ: “সূর্য তার নিজ কক্ষপথে ঘুর্ণয় করে। এটা তার জন্য মহান পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহর পক্ষ থেকে সুনির্ধারিত। আর চন্দ্রের জন্য আমি কিছু পথ নির্দিষ্ট করে দিয়েছি সুতরায় সে সেই পথে ঘুরে ঘুরে (মাসের শেষ সময়ে) একেবারে ক্ষীনকায় হয়ে যায়। সুর্যের ক্ষমতা নেই চন্দ্রকে ধরার আর রাতও দিবসের আগে চলে যেতে পারবে না। মূলত: প্রত্যেকটি সৃষ্টিই তার নিজ নিজ কক্ষপথে বিচরণ করে।” (সূরা ইয়াসীন, আয়াত ৩৮-৪০)

এই সকল সৃষ্টি পরিপূর্ণভাবে একমাত্র আল্লাহর অনুগত। তারা আল্লাহর দাসত্ব মেনে নিয়েছে শর্তহীনভাবে। ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত কোনভাবেই তাদের ক্ষমতা নেই আল্লাহর বিধানে বাইরে যাবার। তারা সর্বদা আল্লাহর আনুগত্য করে এবং প্রশংসা করে। ইরশাদ হয়েছে,

وَلِلَّهِ يَسْجُدُ مَنْ فِي
السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ طَوْعًا وَكَرْهً.

অর্থ: “আল্লাহকে সেজদা করে যা কিছু নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে আছে ইচছায় অথবা অনিচছায়।” (সূরা রা’দ ১৩, আয়াত ১৫)

আরো ইরশাদ হচ্ছে,

أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللَّهَ يَسْجُدُ لَهُ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ
وَمَنْ فِي الْأَرْضِ وَالشَّمْسُ وَالْقَمَرُ وَالنُّجُومُ وَالْجِبَالُ
وَالشَّجَرُ وَالدَّوَابُّ وَكَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ.

অর্থ: “তোমরা কি লক্ষ্য করনি যে, বস্তুত ঃ আল্লাহই এক সত্তা যাকে সেজদা করে সকলেই, যারা আছে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে এবং সেজদা করে সূর্য, চন্দ্র, তারকারাজি, পাহাড়, পর্বত, বৃক্ষরাজি, চতুষ্পদ জন্তু ও বহুসংখ্যক মানুষ। (সূরা হজ্জ ২২, আয়াত ১৮)

উপরোক্ত আলোচনার দ্বারা এটা পরিস্কার হয়ে গেলো যে, মহান আল্লাহ চাইলে পৃথিবীর অন্যান্য সৃষ্টির মতো মানুষ ও জিন সম্প্রদায়কেও প্রকৃতিগতভাবেই তার অনুগত ও বাধ্য করতে পারতেন। মহান আল্লাহ ইচ্ছা করলে পৃথিবীর সব মানুষকে মুসলিম হতে বাধ্য করতে পারতেন। তিনি চাইলে সকল মুসলমানকেও তার সকল নিয়মাবলী যথাসময়ে এবং যথাযথভাবে পালন করতে বাধ্য করতে পারতেন। কিন্তু তিনি এটি করেন নি।কিন্তু কেনো এটা করা হয় নি? বিচক্ষণদের জন্য এটিই হচ্ছে তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এ ব্যাপারে স্বয়ং আল্লাহ নিজেই বলেন,

وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقًا لِمَا
بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ الْكِتَابِ وَمُهَيْمِنًا عَلَيْهِ فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ
بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ وَلا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَهُمْ عَمَّا جَاءَكَ مِنَ الْحَقِّ
لِكُلٍّ جَعَلْنَا مِنْكُمْ شِرْعَةً وَمِنْهَاجًا وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ
لَجَعَلَكُمْ أُمَّةً وَاحِدَةً وَلَكِنْ لِيَبْلُوَكُمْ فِي مَا آَتَاكُمْ
فَاسْتَبِقُوا الْخَيْرَاتِ إِلَى اللَّهِ مَرْجِعُكُمْ جَمِيعًا فَيُنَبِّئُكُمْ
بِمَا كُنْتُمْ فِيهِ تَخْتَلِفُونَ (৪৮)

অর্থঃ “সুতরাং আপনি তাদের মধ্যে ফয়সালা করুন আল্লাহ যা নাযিল করেছে তদনুসারে এবং আপনার কাছে যে সত্য এসেছে তা ছেড়ে তাদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করবেন না। আমি তোমাদের প্রত্যেকের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছি নির্দিষ্ট শরীয়ত ও নির্দিষ্ট পন্থা। আর যদি আল্লাহ্ চাইতেন, তবে অবশ্যই তিনি তোমাদের সাইকে এক জাতি করে দিতেন। কিন্তু তিনি তোমাদের পরীক্ষা করতে চান যা তিনি তোমাদের দিয়েছেন তাঁর মাধ্যমে। অতএব নেক কাজের প্রতি ধাবিত হও। তোমাদের সবাইকে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। তারপর তিনি তোমাদের অবহিত করবেন সে বিষয়ে যাতে তোমরা মতভেদ করতে।” (সূরা মায়িদাহ ০৫: ৪৮)

মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা এই সমগ্র মহাবিশ্বকে সুন্দর করে সৃষ্টি করেছেন। তারপর তিনি সুন্দরতমভাবে সৃষ্টি করেছেন মানুষ। অনেক আদর ও মমতায় তিনি তৈরী করেছেন আমাদেরকে। তিনি ইরশাদ করছেন,

لَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنْسَانَ فِي أَحْسَنِ تَقْوِيمٍ (৪)

অর্থ: “অবশ্যই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সর্বোত্তম গঠনে।” (সূরা তীন ৯৫, আয়াত ০৪)

এই পৃথিবী ও তার সকল সম্পদরাজি এবং তার মধ্যকার সকল উপায় উপকরণ মহান আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন একমাত্র মানুষের জন্য। এই মানুষের জন্যই তিনি সৃষ্টি করেছেন চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ-নক্ষত্র। মানুষের সেবায় তিনি নিয়োজিত করেছেন সকল মাখলুকাতকে। সকল মাখলুকাত ও সৃষ্টির মাঝে তিনি মানুষকে এভাবে করেছেন সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোচ্চ সম্মানিত। ইরশাদ করেন,

وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِي آَدَمَ وَحَمَلْنَاهُمْ فِي
الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَرَزَقْنَاهُمْ مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَفَضَّلْنَاهُمْ عَلَى
كَثِيرٍ مِمَّنْ خَلَقْنَا تَفْضِيلًا (৭০)

অর্থ: “আর আমি তো আদম সন্তানদের সম্মানিত করেছি এবং আমি তাদেরকে স্থলে ও সমুদ্রে বাহন দিয়েছি এবং তাদেরকে দিয়েছি উত্তম রিয্ক। আর আমি মানুষকে আমার অনেক সৃষ্টির উপর অনেক মর্যাদা দিয়েছি।” (সূরা ইসরা ১৭, আয়াত ৭০)

এবার চিন্তা করুন। এতো সম্মানিত মানুষকে যদি মহান আল্লাহ বাধ্য করেন, তাহলে কি তার সম্মান থাকে? কোনো অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথিকে অনেক সম্মান দিয়ে এনে তারপর যদি তাকে বলা হয় যে, আপনি ঠিক ১০ মিনিট দাঁড়িয়ে কথা বলবেন। এক মিনিট কম-বেশি করতে পারবেন না। এই এই কথা বলতে হবে। এর বাইরে কিছু বলতে পারবেন না।…

এভাবে বিভিন্ন ব্যাপারে যদি তাকে প্রকৃতিগতভাবেই বাধ্য করা হয় তাহলে প্রধান অতিথির সম্মান কি আর বাকি থাকে? প্রধান অতিথির সামনে বা সম্মানিত ব্যক্তিদের সামনে মূলনীতি পেশ করা যায়। এলাকার কে কেমন, কার সাথে কেমন ব্যবহার করা উত্তম-মন্দ তা তাকে জানানো যায়। কিন্তু তাকে নির্দিষ্ট কোনো কাজের ক্ষেত্রে বাধ্য করা যায় না।

একইভাবে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলাও তার এই বিশাল সৃষ্টির মধ্যে মানুষকে প্রধান অতিথি করে পাঠিয়েছেন। এই মহাবিশ্বের সকল সৃষ্টির উপর মানুষকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। এরপর মানুষকে তার দেয়া পথে ও পদ্ধতি অনুসারে চলতে বলেছেন। কিন্তু প্রকৃতিগতভাবে তাদেরকে বাধ্য করেন নি। এটাই মানুষের জন্য পরীক্ষা। কারা তার রবের এতো নিয়ামত পেয়ে কৃতজ্ঞ হয় আর কারা অকৃতজ্ঞ হয় -এখন এটিই দেখার বিষয়। মানবজাতির মধ্যে যারা এই বিশ্ব ও মহাবিশ্বের এতো নিয়ামত পেয়ে তার প্রতিপালক ও স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ ও শ্রদ্ধাশীল হবে তাদের জন্য পরকালে রয়েছে অফুরন্ত নিয়ামত। আর অকৃতজ্ঞদের জন্য আযাব।

تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ
وَرَسُولَهُ يُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ
فِيهَا وَذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ (১৩) وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ
وَيَتَعَدَّ حُدُودَهُ يُدْخِلْهُ نَارًا خَالِدًا فِيهَا وَلَهُ عَذَابٌ مُهِينٌ (১৪)

অর্থ: “এগুলো আল্লাহর সীমারেখা। আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে আল্লাহ তাকে প্রবেশ করাবেন জান্নাতসমূহে, যার তলদেশে প্রবাহিত রয়েছে নহরসমূহ। সেখানে তারা স্থায়ী হবে। আর এটা মহা সফলতা। আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নাফরমানী করে এবং তাঁর সীমারেখা লঙ্ঘন করে আল্লাহ তাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন। সেখানে সে স্থায়ী হবে। আর তার জন্যই রয়েছে অপমানজনক আযাব।” (সূরা নিসা, আয়াত ১৩-১৪)

মহান আল্লাহ আমাদের সকলকে বোঝার এবং সঠিক পথ বেছে নেয়ার তাওফীক দিন।

আমীন।


কুরআনের অবিশ্বাস্য গানিতিক বিস্ময় ।

আপনি জেনে খুব বিস্মিত হবেন পবিত্র কুরআনের আয়াত গুলোর মধ্যে ১৯ সংখ্যাটির কারুকার্য অত্যন্ত নিখুঁতভাবে গেঁথে দেওয়া হয়েছে । কুরআন যদি কোন রক্ত মাংসের মানুষ দ্বারাই রচিত হত তবে এতে এমন নিখুঁত গানিতিক হিসাব থাকত না । মানুষের চিন্তাশক্তির একটা সীমা আছে, কিন্তু কুরআনের এই নিখুঁত হিসাব সেই সীমাকে অতিক্রম করে অসিমে চলে যায় আর প্রমান করে এক মহাশক্তির অস্তিত্বের সত্যতা । সেই মহাশক্তিই হল মহান আল্লাহ সুবহানওয়াতায়ালা । পুরোটা পড়ার পর আপনার মাথা তাঁর প্রতি শ্রদ্ধায় নত হয়ে আসবে ।

১- আরবীতে “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম” লিখতে ঠিক ১৯ টা হরফ লাগে ।

২- কুরআনে মোট ১১৪টি সূরা আছে । ১১৪ সংখ্যাটি ১৯ দিয়ে বিভাজ্য (১১৪=১৯x৬)।

৩- প্রথম যে সূরাটি(সূরা আলাক) নাযিল হয় তার অবস্থান শেষের দিক থেকে ১৯ তম ।

৪- প্রথম যে পাঁচটি আয়াত(সূরা আলাকের) নাযিল হয় তাতে ঠিক ১৯ টি শব্দ আছে ।

৫- সূরা আলাকে মোট আয়াত আছে ১৯টি । আর এই ১৯ আয়াতে আছে মোট ২৮৫টি শব্দ যা কিনা বিস্ময়করভাবে ১৯ দিয়ে নিঃশেষে ভাগ করা যায় (২৮৫=১৯x১৫) ।

৬- নাযিলকৃত দ্বিতীয় সূরাটির (সূরা আল-কালাম, কুরআনে অবস্থান ৬৮তম) শব্দসংখ্যা ৩৮(১৯x২)টি।

৭- নাযিলকৃত তৃতীয় সূরাটির (সূরা আল-মুজাম্মিল, কুরআনে অবস্থান ৭৩তম) শব্দসংখ্যা ৫৭(১৯x৩)টি।

৮- আবার সব শেষে নাযিল হওয়া ‘সূরা আন-নাসর’ এ আছে মোট ১৯টি শব্দ । আর এই সূরার প্রথম আয়াতে(আল্লাহ্‌র কাছে সাহায্য চাওয়া হয়েছে এই আয়াতে) আছে ঠিক ১৯টি হরফ ।

৯- কুরআনে ‘আল্লাহ্‌’ নামটি উল্লেখ করা হয়েছে মোট ১৩৩বার যা কিনা ১৯ দিয়ে বিভাজ্য (১৩৩=১৯x৭)।

১০- কুরআনে মোট তিরিশটি পূর্ণসংখ্যার উল্লেখ আছে যাদের যোগফল ১৯ দিয়ে বিভাজ্য ।

 

1 + 2 + 3 + 4 + 5 + 6 + 7 + 8 + 9 + 10 + 11 + 12 + 19 +20 + 30 + 40 + 50 + 60 + 70 + 80 + 99 + 100 + 200 + 300 + 1000 + 2000 + 3000 + 5000 + 50000 + 100000 = 162,146 (19 x 8534)

 

১১- আর দশমিক ভগ্নাংশ আছে মোট ৮টি 1/10, 1/8, 1/6, 1/5, 1/4, 1/3, 1/2 এবং 2/3. তাহলে কুরআনে মোট ৩৮ টি সংখ্যার উল্ল্যেখ আছে (৩৮=১৯x২)।

 

১২। ১১৩টি সূরার আগে “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম” আছে । শুধুমাত্র সূরা আত-তাওবা এর আগে “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম” নেই । আর সূরা আন-নামল এর আগে আছে “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম” দুইবার করে আছে । তাহলে কুরআনে “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম” আছে মোট ১১৪(১৯ x৬)বার । সূরা আত-তাওবা কে প্রথম ধরে যদি গুনে গুনে পরবর্তী সূরার দিকে যেতে থাকেন তবে সূরা আন-নামল পাবেন ঠিক ১৯তম স্থানে ! (ছবিতে দেখুন)

আরও একটু অবাক হওয়া যাক, ১৯ এর গুনিতক-তম সূরার আয়াতগুলির (“বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম” সহ) যোগফলও ১৯ এর গুনিতক মানে ১৯ দিয়ে বিভাজ্য !

 

কুরাআনে সূরার অবস্থান আয়াত সংখ্যা

১৯x১= ১৯তম সূরা ৯৯

১৯x২= ৩৮তম সূরা ৮৯

১৯x৩= ৫৭তম সূরা ৩০

১৯x৪= ৭৬তম সূরা ৩২

১৯x৫= ৯৫তম সূরা ৯

১৯x৬= ১১৪তম সূরা ৭

=২৬৬(১৯x৪)

১৩ – প্রথম দিক থেকে হিসেব করে যেতে থাকলে ১৯ আয়াত সম্বলিত প্রথম সূরা হচ্ছে সূরা আল-ইনফিতার । এই সুরাটির শেষ শব্দ হল ‘আল্লাহ্‌’ । আপনি যদি শেষের দিক হতে আল্লাহ্‌ শব্দটি গুনেগুনে আসতে থাকেন আপনি তাহলে সূরা আল-ইনফিতারের শেষের ‘আল্লাহ্‌’ এর অবস্থান হবে একদম ঠিক ১৯তম স্থানে ! আল্লাহ্‌ আকবর ।

১৪ । ৫০ এবং ৪২তম সূরার প্রত্যেকেই শুরু হয়েছে কাফ দিয়ে । অবাক হবেন সূরা দুটির প্রত্যেকটিতে মোট কাফের সংখ্যা(৫৭=১৯ x) সমান । আবার ৫০তম সূরায় আয়াত আছে ৪৫টি, যোগ করুন ৫০+৪৫= ৯৫(১৯ x৫) । একইভাবে ৪২তম সূরায় আয়াত আছে ৫৩টি, ৪২+৫৩= ৯৫(১৯ x৫) ।

 

৫০তম সূরা ৫৭(১৯ x৩) বার কাফ

৪২তম সূরা ৫৭(১৯ x৩) বার কাফ

৫০তম সূরা ৪৫টি আয়াত ৫০+৪৫= ৯৫(১৯ x৫)

৪২তম সূরা ৫৩টি আয়াত ৪২+৫৩= ৯৫(১৯ x৫)

আবার পুরো কুরআনে কাফ হরফটি আছে মোট ৭৯৮ বার যা কিনা ১৯ দিয়ে বিভাজ্য এবং ভাগফল হয় ৪২ – আর দেখতেই পেয়েছি যে ৪২ তম সুরাটি শুরুও হয়েছে কাফ দিয়ে ।

শুধু কাফ না ‘নুন’ হরফটির ক্ষেত্রেও এরকম বেপার আছে । যেমন নুন দিয়ে যে সূরাটি শুরু হয়েছে তাতে নুনের মোট সংখ্যাও(১৩৩) ১৯ দিয়ে বিভাজ্য (১৩৩= ১৯x৭) ।

সূরা আত-তাওবা কে প্রথম ধরে যদি গুনে গুনে পরবর্তী সূরার দিকে যেতে থাকেন তবে সূরা আন-নামল পাবেন ঠিক ১৯তম স্থানে !

কুরআনে সূরা আল-মুদ্দাসিরের ৩০ নম্বর আয়াতে চ্যালেঞ্জ করে বলা আছে “There are nineteen in charge of it.” (Qur’an, 74:30) । অর্থাৎ ১৯ সংখ্যাটি এর দায়িত্তে আছে । অর্থাৎ কেউ ইচ্ছা করলেই কুরআনকে বিকৃত করতে পারবে না । ১৯ এর বেপার গুলো হিসেব করলেই সব বের হয়ে আসবে এটাকে কেউ বিকৃত করেছে কিনা !একটু চিন্তা করুন কেউ একটা বই লিখে সেই বইয়ের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে এমন একটা চ্যালেঞ্জ করতে পারবে? আপনি অনেক প্রতিভাবান লেখক আপনি পারবেন শব্দ,বর্ণ,বাক্যের সংখ্যা নিয়ে এরকম একটা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে একটা বই লিখতে ? এসবই প্রমাণ করে কুরআন কোন মানুষের তৈরি কাকতালীয়ভাবে মিলে যাওয়া কোন বই না । এটা সৃষ্টিকর্তার নিজের কথা,বানী । একারণেই আদ্যবধি যেমন কুরআন বিকৃত হয়নি তেমনি কেয়ামতের আগ পর্যন্তও হবে না । মহাশক্তিধর আল্লাহ্‌ নিজেই যে এর রক্ষক ।


কুরবানির পশু জবাই পদ্ধতি

আপনার কি মনে হয় ইসলামিক পশু জবাই পদ্ধতিটি খুব নি…ষ্ঠুর?
আসুন দেখা যাক, বিজ্ঞান কি বলে :

western world এ পশু জবাইয়ের প্রচলিত নিয়ম(CPB Method):

Captive bolt pistol(CPB ) নামের এক ধরনের যন্ত্র দ্বারা পশুর কপালে প্রচন্ড আঘাত করা হয়……ধারনা করা হয় এতে পশু unconcious হয়ে পড়ে এবং জবাইয়ের পর ব্যথা অনুভব করে না ……

গবেষণা :
জার্মানির Hanover University এর প্রফেসর Wilhelm Schulze এবং তার সহযোগী Dr. Hazim এর নেতৃত্বে একটি গবেষণা পরিচালিত হয় …গবেষনার বিষয়বস্তু ছিল : ১.western world এ প্রচলিত নিয়মে(CPB Method) এবং ২.ইসলামিক নিয়মে পশু জবাইয়ে পশুর যন্ত্রণা এবং চেতনাকে চিহ্নিত করা……

Experimental Setup:
brain এর surface কে touch করে পশুর মাথার খুলির বিভিন্ন জায়গায় surgically কিছু electrode ঢুকিয়ে দেয়া হয় …… পশুকে এরপর সুস্থ হওয়ার জন্য কিছু সময় দেয়া হয়……তারপর পশুগুলোকে জবাই করা হয়……কিছু পশুকে ইসলামিক নিয়মে আর কিছু পশুকে western world এর নিয়মে…… জবাই করার সময় electroencephalograph (EEG) এবং electrocardiogram (ECG) করে পশুগুলোর brain এবং heart এর

condition দেখা হয়……

Result:

ইসলামিক পদ্ধতিতে জবাইয়ের ফলাফলঃ

১. জবাইয়ের প্রথম ৩ সেকেন্ড EEG graph এ কোন change দেখা যায় না ……তারমানে পশু কোন উল্লেখযোগ্য ব্যথা অনুভব করে না …
২. পরের ৩ সেকেন্ডের EEG record এ দেখা যায় , পশু গভীর ঘুম এ নিমগ্ন থাকার মত অচেতন অবস্থায় থাকে…… হঠাৎ প্রচুর পরিমানে রক্ত শরীর থেকে বের হয়ে যাবার কারনে brain এর vital center গুলোতে রক্তসরবরাহ হয়না………ফলে এই অচেতন অবস্থার সৃষ্টি হয়……
৩. উপরিউল্লিখিত ৬ সেকেন্ড এর পর EEG graph এ zero level দেখায় …… তারমানে পশু কোন ব্যথাই অনুভব করেনা ……
৪. যদিও brain থেকে কোন সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না , তবুও heart স্পন্দিত হচ্ছিল এবং তীব্র খিঁচুনি হচ্ছিল (spinal cord এর একটা reflex action) । এভাবে শরীর থেকে প্রচুর পরিমানে রক্ত বের হয়ে যাচ্ছিল এবং এর ফলে ভোক্তার জন্য স্বাস্থ্যসম্মত মাংস নিশ্চিত হচ্ছিল ।

western world এ প্রচলিত পদ্ধতিতে(CPB Method) জবাইয়ের ফলাফলঃ

১. মাথায় প্রচন্ড আঘাত করার পরের মুহূর্তে পশুটিকে দৃশ্যত অচেতন মনে হচ্ছিল
২. কিন্তু EEG এর দ্বারা বোঝা যাচ্ছিল পশুটি খুব কষ্ট পাচ্ছে ।
৩. ইসলামিক পদ্ধতিতে জবাই করা পশুর তুলনায় CBP দিয়ে আঘাত করা পশুটির heart স্পন্দন আগেই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল । যার ফলে পশুটির শরীর থেকে সব রক্ত বের হতে পারে নি । এবং ফলশ্রুতিতে, পশুটির মাংস ভোক্তার জন্য অস্বাস্থ্যকর হয়ে যাচ্ছিল ।

western world এর পদ্ধতি(CPB Method) এবং MAD COW রোগঃ

Texas A & M University এবং Canada এর Food Inspection Agency একটা পদ্ধতি(Pneumatic Stunning) আবিষ্কার করেছে যেটাতে একটা metal bolt পশুর brain এ fire করা হয় এবং এর ফলে brain এর টিস্যু পশুর সারা শরীরে ছড়িয়ে পরে । brain tissue এবং spinal cord হল Mad Cow আক্রান্ত গরুর সবচেয়ে সংক্রামক অংশ ।
এছাড়াও brain এবং heart এ electric shock এর মাধ্যমে পশুকে অচেতন করেও কিছু কিছু জায়গায় পশু জবাই করা হয় যেটা মাংসের quality এ
ভারতীয় পদ্ধতিঃর উপর খুব খারাপ প্রভাব ফেলে ।

ভারতে পশুর মাথা এক কোপে আলাদা করে ফেলা হয় । এতে করে ঐচ্ছিক পেশীগুলো হঠাৎ করে সঙ্কুচিত হয়ে পরে যা অনেক পুষ্টি সমৃদ্ধ তরল বের করে দেয় এবং heart হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শরীর থেকে রক্ত বের হতে পারে না , যা বের হওয়া স্বাস্থ্যকর মাংসের জন্য দরকার ।

এছাড়া ইসলামে spinal cord না কেটে শ্বাসনালী , এবং jugular vein দুটো কাটার
ব্যাপারে জোর দেয়া হয়েছে । এর ফলে রক্ত দ্রুত শরীর থেকে বের হয়ে যেতে পারে । spinal cord কাটলে cardiac arrest এর সম্ভাবনা থাকে যার

ফলে রক্ত শরীরে আটকে যাবে যা রোগজীবানু এর উৎস ।

এখানে রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর একটি হাদীস মনে করিয়ে দেয়ার প্রয়োজন অনুভব করছিঃ “আল্লাহ সবাইকে দয়া করার হুকুম দেন । তাই যখন জবাই কর তখন দয়া কর । জবাই করার পূর্বে ছুরিতে ধার দিয়ে নাও যাতে পশুর কষ্ট কম হয়” । তিনি পশুর সামনে ছুরিতে শান দিতে বা এক পশুর সামনে আরেক পশুকে জবাই করতেও নিষেধ করেছেন । এই জিনিস্টা কুরবানীর সময় আমারা ভুলে যাই ।

সবশেষে , আমরা কি এই সিদ্ধান্তে আসতে পারি যে পশু জবাই করার ইসলামিক পদ্ধতিটিই সবচেয়ে বিজ্ঞানসম্মত এবং পশু এবং পশুর মালিক উভয়ের জন্যই উপকারী?


Finger print এর রহস্য

কুরআন এ আছে : মানুষ কি ভেবেছে আমি তার অস্থিসমুহ একত্র করতে পারব না? অবশ্যই আমি সক্ষম এমনকি তার আঙ্গুলের আগাকেও পূণরায় সৃষ্টি করতে। আজ থেকে চৌদ্দশত বছর আগের লোকেরা ফিঙ্গার প্রিন্ট সম্পর্কে খুব কম এ জানত। তবে কেন আল্লাহ কোরআন এ ফিঙ্গারপ্রিন্ট এর তুলনা দিয়েছেন? আসুন একটু দেখি।

১৮৭৫সালে জেন জিন্সেন নামক এক ইংলিশ বিজ্ঞানি আবিস্কার করেন যে আঙ্গুলের ছাপ একটি অসাধারন বিষয়। এর রেখার ধরন একটি আরেকটির চেয়ে ভিন্ন এবং সম্পূর্ণ আলাদা। এবং আপনি যা কিছু ছোঁবেন তাতেই আপনার আঙ্গুলের ছাপ বসে যাবে, এটা সবার ই জানা কথা তবে ১৪০০বছর আগের লোকেরা এ ব্যাপারে খুব কম এ জানতেন।

এই আঙ্গুলের আগার রেখার গঠন এবং গড়ন মাতৃগর্ভের প্রথম তিন মাসে হয়। এর অনেক ব্যাখ্যা রয়েছে, একটি হল মানুষের সকল চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এই আঙ্গুলের ছাপে এনকোডেড রয়েছে। সুতরাং আমাদের পুনরুত্থান এর সময় আল্লাহ আমাদের শরীর পুরাপুরি ফিরিয়ে দিবেন এবং আমাদের বিচার করবেন, আর শুধু আঙ্গুলির মাথার ছাপ দিয়েই আমাদের সকল চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য জানা সম্ভব। আঙ্গুলের আগা কে এক কথায় ডাটা ব্যাংক বলা জেতে পারে। নিশ্চয় ডিএনএ একটি অতি মূল্যবান আবিষ্কার।
এ কথা তাহলে খুবই স্পষ্ট যে আল্লাহর কাছে আমাদের পুনরুত্থান কোন ব্যাপার এ না। কোরআন এ সকল বিজ্ঞানের সমাধান আছে যা আমরা জানি না।ডিএনএ আবিকার হবার পর এই ধারনা বদলে গেছে যে কোষ তার অবস্থিত এলিমেন্ট নিয়ে একটি সাধারন সৃষ্টি নয়। আরও গভির গবেষণায় এর জটিলতা প্রকাশ পেয়েছে। মানুষের একটি ডিএনএ কোটি কোটি কোড সম্বলিত হয়, আমাদের চুলের রঙ থেকে শুরু করে নখ পর্যন্ত সকল তথ্য এই কোড এ থাকে. আঙ্গুলের আগার একটি ডিএনএ এর কোড ছাপালে লক্ষ পৃষ্ঠার হাজার কপি বই হবে। আর আঙ্গুলের আগার একটি ডিএনএ দিয়ে যে কারো সকল তথ্য জানা সম্ভব।


নবীজী (সা) এর প্রিয় বারোটি খাবার

নবীজী (সা) এর প্রিয় বারোটি খাবার:

এক. বার্লি (জাউ): এটা জ্বরের জন্য এবং পেটের পীড়ায়
উপকারী।


দুই. খেজুর: খেজুরের গুণাগুণ ও খাদ্যশক্তি অপরিসীম। খেজুরের খাদ্যশক্তি ও খনিজ লবণের উপাদান শরীর সতেজ রাখে।
নবীজী (স:) বলতেন,যে বাড়ীতে খেজুর নেই সে বাড়ীতে কোন খাবার নেই।এমনকি সন্তান প্রসবের পর প্রসূতি মাকে খেজুর
খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আল্লাহর নবী।


তিন. ফিগস বা ডুমুর: ডুমুর অত্যন্ত পুষ্টিকর ও ভেষজগুণ সম্পন্ন যাদের পাইলস ও কোষ্ঠকাঠিন্য আছে তাদের জন্য
অত্যন্ত উপযোগী খাবার।


চার. আঙ্গুর: নবীজী (স:) আঙ্গুর খেতে অত্যন্ত ভালবাসতেন।আঙ্গুরের পুষ্টিগুণ ও খাদ্যগুণ অপরিসীম। এই খাবারের উচ্চ খাদ্য শক্তির কারণে এটা থেকে আমরা তাত্ক্ষণিক এনার্জি পাই এবং এটা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। আঙ্গুর কিডনির জন্য উপকারী এবং বাওয়েল মুভমেন্টে সহায়ক। যাদের আইবিএস বা ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম আছে তারা খেতে পারেন।


পাঁচ. মধু- মধুর নানা পুষ্টিগুণ ও ভেষজ গুণ রয়েছে।মধুকে বলা হয় খাবার, পানীয় ও ওষুধের সেরা।হালকা গরম
পানির সঙ্গে মিশিয়ে মধু পান ডায়রিয়ার জন্য ভালো।খাবারে অরুচি,পাকস্থলীর সমস্যা, হেয়ার কন্ডিশনার ও মাউথ
ওয়াশ হিসেবে উপকারী।


ছয়. তরমুজ- সব ধরনের তরমুজ স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।নবীজী (স:) তরমুজ আহারকে গুরুত্ব দিতেন। যেসব গর্ভবতী মায়েরা তরমুজ আহার করেন তাদের সন্তান প্রসব সহজ হয়। তরমুজের পুষ্টি, খাদ্য ও ভেষজগুণ এখন সর্বজনবিদিত ও বৈজ্ঞানিক সত্য।


সাত. দুধ- দুধের খাদ্যগুণ, পুষ্টিগুণ ও ভেষজগুণ বর্ণনাতীত।দেড় হাজার বছর আগে বিজ্ঞান যখন অন্ধকারে তখন
নবীজী (স:) দুধ সম্পর্কে বলেন, দুধ হার্টের জন্য ভালো। দুধ পানে মেরুদন্ড সবল হয়,মস্তিষ্ক সুগঠিত হয়
এবং দৃষ্টিশক্তি ও স্মৃতিশক্তি প্রখর হয়। আজকের বিজ্ঞানীরাও দুধকে আদর্শ খাবার হিসেবে দেখেন এবং এর
ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি অস্থিগঠনে সহায়ক।


আট. মাশরুম- আজ বিশ্বজুড়ে মাশরুম একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর খাবার এবং মাশরুম নিয়ে চলছে নানা গবেষণা। অথচ দেড় হাজার বছর আগে নবীজী(স:) মাশরুম চোখের জন্য ভালো এবং এটা বার্থ কন্ট্রোলে সহায়ক এবং মাশরুমের ভেষজগুণের কারণে এটা নার্ভ শক্ত করে এবং শরীর প্যারালাইসিস বা অকেজো হওয়ার প্রক্রিয়া রোধ করে।


নয়. অলিভ অয়েল: অলিভ অয়েলের খাদ্য ও পুষ্টিগুণ বহুমুখী।তবে আজ মানুষের ত্বকের সৌন্দর্য রক্ষা ও বয়স ধরে রাখার
জন্য যারা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছেন তাদের দেড়হাজার বছর আগে নবীজী (স:) অলিভ অয়েল ব্যবহারের
পরামর্শ দিয়েছেন। গবেষণায় দেখা গেছে অলিভ অয়েল ত্বক ও চুলের জন্য ভালো এবং বয়স ধরে রাখার ক্ষেত্রে সহায়ক
বা বুড়িয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করে।এছাড়া অলিভ অয়েল পাকস্থলীর প্রদাহ নিরাময়ে সহায়ক।


দশ. ডালিম-বেদানা: বেদানার পুষ্টিগুণ ও খাদ্যগুণের
পাশাপাশি এটার ধর্মীয় একটি দিক আছে এবং নবীজী (স:)
বলতেন, এটা আহারকারীদের শয়তান ও মন্দ চিন্তা থেকে বিরত রাখে।


এগার. ভিনেগার- ভিনেগারের ভেষজ গুণ ও খাদ্যগুণ অপরিসীম।নবীজী (স:) অলিভ অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে ভিনেগার খাওয়ার
পরামর্শ দিয়েছেন। অথচ আজকের এই মডার্ন ও বিজ্ঞানের অভূতপূর্ব সাফল্যের যুগে বিশ্বের বড় বড় নামি-দামি রেস্টুরেন্ট
বিশেষ করে এলিট ইটালিয়ান রেস্টুরেন্টে অভিল অয়েল ও ভিনেগার একসঙ্গে মিশিয়ে পরিবেশন করা হয়।


বার. খাবার পানি: পানির অপর নাম জীবন। পানির ভেষজগুণ
অপরিসীম। দেড় হাজার বছর আগে নবীজী (স:)পানিকে পৃথিবীর সেরা ড্রিংক বা পানীয় হিসাবে উল্লেখ
করেছেন। সৌন্দর্য চর্চা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য রক্ষায় চিকিত্সা বিজ্ঞানীরা আজ প্রচুর পানি পান করতে বলেন।


প্রতিটি মুসলমানের এই গল্পটি মনে রাখা উচিৎ

ইমাম গাজ্জালী একবার একটা গল্প বলেছিলেন।

এক ব্যক্তি জঙ্গলে হাটছিলেন। হঠাৎ দেখলেন এক সিংহ তার পিছু নিয়েছে। তিনি প্রাণভয়ে দৌড়াতে লাগলেন।কিছুদূর গিয়ে একটি পানিহীন কুয়া দেখতে পেলেন।
তিনি চোখ বন্ধ করে দিলেন ঝাঁপ।পড়তে পড়তে তিনি একটি ঝুলন্ত দড়ি দেখে তা খপ করে ধরে ফেললেন এবং ঐ অবস্থায় ঝুলে রইলেন।
উপরে চেয়ে দেখলেন কুয়ার মুখে সিংহটি তাকে খাওয়ার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। নিচে চেয়ে দেখলেন বিশাল এক সাপ তার নিচে নামার অপেক্ষায় চেয়ে আছে। বিপদের উপর আরোবিপদ হিসেবে দেখতে পেলেন একটি সাদা আর একটিকালো ইঁদুর তার দড়িটি কামড়ে ছিড়ে ফেলতে চাইছে।
এমন হিমশিম অবস্থায় কি করবেন যখন তিনি বুঝতে পারছিলেন না, তখন হঠাৎ তারসামনে কুয়ার সাথে লাগোয়া গাছে একটা মৌচাক দেখতে পেলেন। তিনি কি মনে করে সেই মৌচাকের মধুতে আঙ্গুল ডুবিয়ে তা চেটে দেখলেন। সেই মধুর মিষ্টতা এতই বেশি ছিল যে তিনি কিছু মুহূর্তের জন্য উপরের গর্জনরত সিংহ, নিচের হাঁ করে থাকা সাপ, আর দড়ি কাঁটা ইঁদুরদেরকথা ভূলে গেলেন। ফলে তার বিপদ অবিশ্যম্ভাবী হয়ে দাঁড়ালো। ইমাম গাজ্জালী

===================================
এই গল্পের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেনঃ এই সিংহটি হচ্ছে আমাদের মৃত্যু,যে সর্বক্ষণ আমাদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে।
সেই সাপটি হচ্ছে কবর। যা আমাদের অপেক্ষায় আছে।
দড়িটি হচ্ছে আমাদের জীবন, যাকে আশ্রয় করেই বেঁচে থাকা।
সাদা ইঁদুর হল দিন, আর কালো ইঁদুর হল রাত, যারা প্রতিনিয়ত ধীরে ধীরে আমাদের জীবনের আয়ু কমিয়ে দিয়ে আমাদের মৃত্যুর দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
আর সেই মৌচাক হল দুনিয়া। যার সামান্য মিষ্টতা পরখ করে দেখতে গেলেও আমাদের এই চতুর্মুখি ভয়ানক বিপদের কথা ভূলে যাওয়াটা বাধ্য।


“আল্লাহ্‌’’ ৯৯ নামের অর্থ

“আল্লাহ্‌” এই নামটি হচ্ছে সব নামের মধ্যে সবচাইতে মর্যাদাপূর্ণ।
১.

الرَّحْمَنُ
আর-রহ়মান সবচাইতে দয়ালু, কল্যাণময়, করুণাময়
২.

الرَّحِيمُ
আর-রহ়ীম সবচাইতে ক্ষমাশীল
৩.

الْمَلِكُ
আল-মালিক অধিপতি
৪.

الْقُدُّوسُ
আল-ক্বুদ্দূস পূতঃপবিত্র, নিখুঁত
৫.

السَّلَامُ
আস-সালাম শান্তি এবং নিরাপত্তার উৎস, ত্রাণকর্তা
৬.

الْمُؤْمِنُ
আল-মু’মিন জামিনদার, সত্য ঘোষণাকারী
৭.

الْمُهَيْمِنُ
আল-মুহাইমিন অভিভাবক, প্রতিপালক
৮.

الْعَزِيزُ
আল-’আযীয সর্বশক্তিমান, সবচেয়ে সম্মানিত
৯.

الْجَبَّارُ
আল-জাব্বার দুর্নিবার, সমুচ্চ, মহিমান্বিত
১০.

الْمُتَكَبِّرُ
আল-মুতাকাব্বির সর্বশ্রেষ্ঠ, গৌরবান্বিত
১১.

الْخَالِقُ
আল-খলিক্ব সৃষ্টিকর্তা, (শূন্য থেকে)
১২

الْبَارِئُ
আল-বারি’ বিবর্ধনকারী, নির্মাণকর্তা, পরিকল্পনাকারী
১৩.

الْمُصَوِّرُ
আল-মুসউয়ির আকৃতিদানকারী
১৪.

الْغَفَّارُ
আল-গফ্‌ফার পুনঃপুনঃ মার্জনাকারী
১৫.

الْقَهَّارُ
আল-ক্বহ্‌হার দমনকারী
১৬.

الْوَهَّابُ
আল-ওয়াহ্‌হাব স্থাপনকারী
১৭.

الرَّزَّاقُ
আর-রযযাক্ব প্রদানকারী
১৮.

الْفَتَّاحُ
আল-ফাত্তাহ় প্রারম্ভকারী, বিজয়দানকারী
১৯.

الْعَلِيمُ
আল-’আলীম সর্বজ্ঞানী, সর্বদর্শী
২০.

الْقَابِضُ
আল-ক্ববিদ় নিয়ন্ত্রণকারী, সরলপথ প্রদর্শনকারী
২১.

الْبَاسِطُ
আল-বাসিত প্রসারণকারী
২২.

الْخَافِضُ
আল-খ়¯ফিদ় (অবিশ্বাসীদের) অপমানকারী
২৩.

الرَّافِعُ
আর-ঢ়¯ফি’ উন্নীতকারী
২৪.

الْمُعِزُّ
আল-মু’ইয্ব সম্মানপ্রদানকারী
২৫.

الْمُذِلُّ
আল-মুঝ়িল সম্মানহরণকারী
২৬.

السَّمِيعُ
আস-সামী’ সর্বশ্রোতা
২৭.

الْبَصِيرُ
আল-বাসী়র সর্বদ্রষ্টা
২৮.

الْحَكَمُ
আল-হা়কাম বিচারপতি
২৯.

الْعَدْلُ
আল-’আদল্‌ নিখুঁত
৩০.

اللَّطِيفُ
আল-লাতীফ অমায়িক
৩১.

الْخَبِيرُ
আল-খবীর সম্যক অবগত
৩২.

الْحَلِيمُ
আল-হ়ালীম ধৈর্যবান, প্রশ্রয়দাতা
৩৩.

الْعَظِيمُ
আল-’আযীম সুমহান
৩৪.

الْغَفُورُ
আল-গ’ফূর মার্জনাকারী
৩৫.

الشَّكُورُ
আশ-শাকূর সুবিবেচক
৩৬.

الْعَلِيُّ
আল-’আলিই মহীয়ান
৩৭.

الْكَبِيرُ
আল-কাবীর সুমহান
৩৮.

الْحَفِيظُ
আল-হ়াফীয সংরক্ষণকারী
৩৯.

الْمُقِيتُ
আল-মুক্বীত লালনপালনকারী
৪০.

الْحَسِيبُ
আল-হ়াসীব মীমাংসাকারী
৪১.

الْجَلِيلُ
আল-জালীল গৌরবান্বিত
৪২.

الْكَرِيمُ
আল-কারীম উদার, অকৃপণ
৪৩.

الرَّقِيبُ
আর-রক্বীব সদা জাগ্রত,অতন্দ্র পর্যবেক্ষণকারী
৪৪.

الْمُجِيبُ
আল-মুজীব সাড়া দানকারী, উত্তরদাতা
৪৫.

الْوَاسِعُ
আল-ওয়াসি’ অসীম, সর্বত্র বিরাজমান
৪৬.

الْحَكِيمُ
আল-হ়াকীম সুবিজ্ঞ, সুদক্ষ
৪৭.

الْوَدُودُ
আল-ওয়াদূদ স্নেহশীল
৪৮.

الْمَجِيدُ
আল-মাজীদ মহিমান্বিত
৪৯.

الْبَاعِثُ
আল-বা‘ইস় পুনরুত্থানকারী
৫০.

الشَّهِيدُ
আশ-শাহীদ সাক্ষ্যদানকারী
৫১.

الْحَقُّ
আল-হাক্ক্ব প্রকৃত সত্য,
৫২.

الْوَكِيلُ
আল-ওয়াকীল সহায় প্রদানকারী,আস্থাভাজন, উকিল
৫৩.

الْقَوِيُّ
আল-ক্বউই ক্ষমতাশালী
৫৪.

الْمَتِينُ
আল মাতীন সুদৃঢ়, সুস্থির
৫৫.

الْوَلِيُّ
আল-ওয়ালিই বন্ধু, সাহায্যকারী, শুভাকাঙ্ক্ষী
৫৬.

الْحَمِيدُ
আল-হ়ামীদ সকল প্রশংসার দাবীদার, প্রশংসনীয়
৫৭.

الْمُحْصِي
আল-মুহ়সী বর্ণনাকারী, গণনাকারী
৫৮.

الْمُبْدِئُ
আল-মুব্‌দি’ অগ্রণী, প্রথম প্রবর্তক, সৃজনকর্তা
৫৯.

الْمُعِيدُ
আল-মু’ঈদ পুনঃপ্রতিষ্ঠাকারী, পুনরূদ্ধারকারি
৬০.

الْمُحْيِي
আল-মুহ়ীই জীবনদানকারী
৬১.

الْمُمِيتُ
আল-মুমীত ধ্বংসকারী, মৃত্যু আনয়নকারী
৬২.

الْحَيُّ
আল-হ়াইই চিরঞ্জীব, যার কোন শেষ নাই
৬৩.

الْقَيُّومُ
আল-ক্বইয়ূম অভিভাবক, জীবিকানির্বাহ প্রদানকারী
৬৪.

الْوَاجِدُ
আল-ওয়াজিদ পর্যবেক্ষক, আবিষ্কর্তা, চিরস্থায়ী
৬৫.

الْمَاجِدُ
আল-মাজিদ সুপ্রসিদ্ধ
৬৬.

الْوَاحِدُ
আল-ওয়াহ়িদ এক, অনন্য, অদ্বিতীয়
৬৭.

الصَّمَدُ
আস-সমাদ চিরন্তন, অবিনশ্বর, নির্বিকল্প, সুনিপুণ, স্বয়ং সম্পূর্ণ
৬৮.

الْقَادِرُ
আল-ক্বদির সর্বশক্তিমান
৬৯.

الْمُقْتَدِرُ
আল-মুক্বতাদির প্রভাবশালী, সিদ্ধান্তগ্রহণকারী
৭০.

الْمُقَدِّمُ
আল-মুক্বদ্দিম অগ্রগতিতে সহায়তা প্রদানকারী
৭১.

الْمُؤَخِّرُ
আল-মুআক্ষির বিলম্বকারী
৭২.

الْأَوَّلُ
আল-আউয়াল সর্বপ্রথম, যার কোন শুরু নাই
৭৩

الْآخِرُ
আল-আখির সর্বশেষ, যার কোন শেষ নাই
৭৪.

الظَّاهِرُ
আজ়-জ়়হির সুস্পষ্ট, সুপ্রতীয়মান, বাহ্য (যা কিছু দেখা যায়)
৭৫.

الْبَاطِنُ
আল-বাত়িন লুক্কায়িত, অস্পষ্ট, অন্তরস্থ (যা কিছু দেখা যায় না)
৭৬.

الْوَالِيَ
আল-ওয়ালি সুরক্ষাকারী বন্ধু, অনুগ্রহকারী, বন্ধুত্বপূর্ণ প্রভু
৭৭.

الْمُتَعَالِي
আল-মুতা’আলী সর্বোচ্চ মহিমান্বিত, সুউচ্চ
৭৮.

الْبَرُّ
আল-বার্‌র কল্যাণকারী
৭৯.

التَّوَّابُ
আত-তাওয়াব বিনম্র, সর্বদা আবর্তিতমান
৮০.

الْمُنْتَقِمُ
আল-মুন্‌তাক্বিম প্রতিফল প্রদানকারী
৮১.

الْعَفُوُّ
আল-’আফুউ শাস্তি মউকুফকারী, গুনাহ ক্ষমাকারী
৮২.

الرَّءُوفُ
আর-র’ওফ সদয়, সমবেদনা প্রকাশকারী
৮৩.

مَالِكُ الْمُلْكِ
মালিকুল মুলক্‌ সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী
৮৪.

ذُو الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ
জ়়ুল জালালি ওয়াল ইকরম মর্যাদা ও ঔদার্যের প্রভু
৮৫.

الْمُقْسِطُ
আল-মুক্বসিত় ন্যায়পরায়ণ, প্রতিদানকারী
৮৬.

الْجَامِعُ
আল-জামি’ একত্র আনয়নকারী, ঐক্য সাধনকারী
৮৭.

الْغَنِيُّ
আল-গ’নিই ঐশ্বর্যবান, স্বতন্ত্র
৮৮.

الْمُغْنِي
আল-মুগ’নি সমৃদ্ধকারী, উদ্ধারকারী
৮৯.

الْمَانِعُ
আল-মানি’ প্রতিরোধকারী, রক্ষাকর্তা
৯০

الضَّارُّ
আদ়-দ়়র্‌র যন্ত্রণাদানকারী, উৎপীড়নকারী
৯১.

النَّافِعُ
আন-নাফি’ অনুগ্রাহক, উপকর্তা, হিতকারী
৯২.

النُّورُ
আন-নূর আলোক
৯৩.

الْهَادِي
আল-হাদী পথপ্রদর্শক
৯৪.

الْبَدِيعُ
আল-বাদী’ অতুলনীয়, অনিধগম্য (Unattainable),
৯৫.

الْبَاقِي
আল-বাকী অপরিবর্তনীয়, অনন্ত, অসীম, অক্ষয়
৯৬.

الْوَارِثُ
আল-ওয়ারিস় সবকিছুর উত্তরাধিকারী
৯৭.

الرَّشِيدُ
আর-রশীদ সঠিক পথের নির্দেশক
৯৮.

الصَّبُورُ
আস-সবূর ধৈর্যশীল


একশতটি কবীরা গুনাহ !!!

1. আল্লাহর সাথে শিরক করা
2. নামায পরিত্যাগ কর
3. পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া
4. অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা করা
5. পিতা-মাতাকে অভিসম্পাত করা
6. যাদু-টোনা করা
7. এতীমের সম্পদ আত্মসাৎ করা
8. জিহাদের ময়দান থেকে থেকে পলায়ন
9. সতী-সাধ্বী মু‘মিন নারীর প্রতি অপবাদ
10. রোযা না রাখা
11. যাকাত আদায় না করা
12. ক্ষমতা থাকা সত্যেও হজ্জ আদায় না করা
13. যাদুর বৈধতায় বিশ্বাস করা
14. প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়া
15. অহংকার করা
16. চুগলখোরি করা (ঝগড়া লাগানোর উদ্দেশ্যে একজনের কথা আরেকজনের নিকট লাগোনো)
17. আত্মহত্যা করা
18. আত্মীয়তা সম্পর্ক ছিন্ন করা
19. অবৈধ পথে উপার্জিত অর্থ ভক্ষণ করা
20. উপকার করে খোটা দান করা
21. মদ বা নেশা দ্রব্য গ্রহণ করা
22. মদ প্রস্তুত ও প্রচারে অংশ গ্রহণ করা
23. জুয়া খেলা
24. তকদীর অস্বীকার করা
25. অদৃশ্যের খবর জানার দাবী করা
26. গণকের কাছে ধর্না দেয়া বা গণকের কাছে অদৃশ্যের খবর জানতে চাওয়া
27. পেশাব থেকে পবিত্র না থাকা
28. রাসূল (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর নামে মিথ্যা হাদীস বর্ণনা করা
29. মিথ্যা স্বপ্ন বর্ণনা করা
30. মিথ্যা কথা বলা
31. মিথ্যা কসম খাওয়া
32. মিথ্যা কসমের মাধ্যমে পণ্য বিক্রয় করা
33. জিনা-ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া
34. সমকামিতায় লিপ্ত হওয়া
35. মানুষের গোপন কথা চুপিসারে শোনার চেষ্টা করা
36. হিল্লা তথা চুক্তি ভিত্তিক বিয়ে করা।
37. যার জন্যে হিলা করা হয়
38. মানুষের বংশ মর্যাদায় আঘাত হানা
39. মৃতের উদ্দেশ্যে উচ্চস্বরে ক্রন্দন করা
40. মুসলিম সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা
41. মুসলিমকে গালি দেয়া অথবা তার সাথে লড়ায়ে লিপ্ত হওয়া
42. খেলার ছলে কোন প্রাণীকে নিক্ষেপ যোগ্য অস্ত্রের লক্ষ্য বস্তু বানানো
43. কোন অপরাধীকে আশ্রয় দান করা
44. আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে পশু জবেহ করা
45. ওজনে কম দেয়া
46. ঝগড়া-বিবাদে অশ্লীল ভাষা প্রয়োগ করা
47. ইসলামী আইনানুসারে বিচার বা শাসনকার্য পরিচালনা না করা
48. জমিনের সীমানা পরিবর্তন করা বা পরের জমি জবর দখল করা
49. গীবত তথা অসাক্ষাতে কারো দোষ চর্চা করা
50. দাঁত চিকন করা
51. সৌন্দর্যের উদ্দেশ্যে মুখ মণ্ডলের চুল তুলে ফেলা বা চুল উঠিয়ে ভ্রু চিকন করা
52. অতিরিক্ত চুল সংযোগ করা
53. পুরুষের নারী বেশ ধারণ করা
54. নারীর পুরুষ বেশ ধারণ করা
55. বিপরীত লিঙ্গের প্রতি কামনার দৃষ্টিতে তাকানো
56. কবরকে মসজিদ হিসেবে গ্রহণ করা
57. পথিককে নিজের কাছে অতিরিক্ত পানি থাকার পরেও না দেয়া
58. পুরুষের টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে পোশাক পরিধান করা
59. মুসলিম শাসকের সাথে কৃত বাইআত বা আনুগত্যের শপথ ভঙ্গ করা
60. ডাকাতি করা
61. চুরি করা
62. সুদ লেন-দেন করা, সুদ লেখা বা তাতে সাক্ষী থাকা
63. ঘুষ লেন-দেন করা
64. গনিমত তথা জিহাদের মাধ্যমে কাফেরদের নিকট থেকে প্রাপ্ত সম্পদ বণ্টনের পূর্বে আত্মসাৎ করা
65. স্ত্রীর পায়ু পথে যৌন ক্রিয়া করা
66. জুলুম-অত্যাচার করা
67. অস্ত্র দ্বারা ভয় দেখানো বা তা দ্বারা কাউকে ইঙ্গিত করা
68. প্রতারণা বা ঠগ বাজী করা
69. রিয়া বা লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে সৎ আমল করা
70. স্বর্ণ বা রৌপ্যের তৈরি পাত্র ব্যবহার করা
71. পুরুষের রেশমি পোশাক এবং স্বর্ণ ও রৌপ্য পরিধান করা
72. সাহাবীদের গালি দেয়া
73. নামাযরত অবস্থায় মুসল্লির সামনে দিয়ে গমন করা
74. মনিবের নিকট থেকে কৃতদাসের পলায়ন
75. ভ্রান্ত মতবাদ জাহেলী রীতিনীতি অথবা বিদআতের প্রতি আহবান করা
76. পবিত্র মক্কা ও মদীনায় কোন অপকর্ম বা দুষ্কৃতি করা
77. কোন দুষ্কৃতিকারীকে প্রশ্রয় দেয়া
78. আল্লাহর ব্যাপারে অনধিকার চর্চা করা
79. বিনা প্রয়োজনে তালাক চাওয়া
80. যে নারীর প্রতি তার স্বামী অসন্তুষ্ট
81. স্বামীর অবাধ্য হওয়া
82. স্ত্রী কর্তৃক স্বামীর অবদান অস্বীকার করা
83. স্বামী-স্ত্রীর মিলনের কথা জনসম্মুখে প্রকাশ করা
84. স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিবাদ সৃষ্টি করা
85. বেশী বেশী অভিশাপ দেয়া
86. বিশ্বাস ঘাতকতা করা
87. অঙ্গীকার পূরণ না করা
88. আমানতের খিয়ানত করা
89. প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়া
90. ঋণ পরিশোধ না করা
91. বদ মেজাজি ও এমন অহংকারী যে উপদেশ গ্রহণ করে না
92. তাবিজ-কবজ, রিং, সুতা ইত্যাদি ঝুলানো
93. পরীক্ষায় নকল করা
94. ভেজাল পণ্য বিক্রয় করা
95. ইচ্ছাকৃত ভাবে জেনে শুনে অন্যায় বিচার করা
96. আল্লাহ বিধান ব্যতিরেকে বিচার-ফয়সালা করা
97. দুনিয়া কামানোর উদ্দেশ্যে দীনী ইলম অর্জন করা
98. কোন ইলম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে জানা সত্যেও তা গোপন করা
99. নিজের পিতা ছাড়া অন্যকে পিতা বলে দাবী করা
100. আল্লাহর রাস্তায় বাধা দেয়া


জমজম কূপ !!!

 

জমজম কূপ মূলত মহান আল্লাহ তায়ালারই কুদরতি নিদর্শন।পবিত্রতা, প্রাণময়তা ও বৈশিষ্ট্যে জমজম কূপের পানি পৃথিবীর সকল পানির চেয়ে উত্তম। হযরত ইব্রাহীম (আ:) যখন শিশু ইসমাঈল (আ:)সহ বিবি হাজেরা (আ:)কে মক্কায় নির্বাসনে পাঠান, তখন থেকেই জমজম কূপের আবির্ভাব হয়। হযরত বিবি হাজেরা তখন অত্যন্ত আনন্দিত হলেন এবং চারদিকে পাড় বেঁধে পানি থামানোর চেষ্টা করলেন। তিনি পানিকে থামার নির্দেশ দিয়ে উচ্চস্বরে বলছিলেন ‘জমজম’ অর্থাৎ থেমে যাও। হযরত হাজেরার উচ্চারিত সে শব্দেই পৃথিবীর সবচাইতে পবিত্র এ কূপের নাম হয়ে যায় ‘জমজম’ রাসূল (সা:) নিজ হাতে পানি উত্তোলন করতেন এবং পান করতেন।

১) আল্লাহ তা’লার অসীম কুদরতে ৪০০০ বছর পূর্বে সৃষ্টি হয়েছিল।

২) ভারী মোটরের সাহায্যে প্রতি সেকেন্ডে ৮০০০ লিটার পানি উত্তোলন করার পরও পানি ঠিক সৃষ্টির সূচনাকালের ন্যায়।

৩) পানির স্বাদ পরিবর্তন হয়নি, জন্মায়নি কোন ছত্রাক বা শৈবাল।

৪) সারাদিন পানি উত্তোলন শেষে, মাত্র ১১ মিনিটেই আবার পূর্ণ হয়ে যায় কূপটি।

 

৫) এই কূপের পানি কখনও শুকায়নি, সৃষ্টির পর থেকে একই রকম আছে এর পানি প্রবাহ, এমনকি হজ্ব মউসুমে ব্যবহার কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়া সত্বেও এই পানির স্তর কখনও নিচে নামে না।

৬) সৃষ্টির পর থেকে এর গুনাগুণ, স্বাদ ও এর মধ্যে বিভিন্ন উপাদান একই পরিমাণে আছে।

৮) এই কূপের পানির মধ্যে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম সল্ট এর পরিমাণ অন্যান্য পানির থেকে বেশী, এজন্য এই পানি শুধু পিপাসা মেটায় তা না, এই পানি ক্ষুধাও নিবারণ করে।

৯) এই পানিতে ফ্লুরাইডের পরিমাণ বেশী থাকার কারণে এতে কোন জীবানু জন্মায় না ।

১০) এই পানি পান করলে সকল ক্লান্তি দূর হয়ে যায়।


দৃষ্টি সংযত রাখার উপায়

দৃষ্টি সংযত রাখার উপায় সমূহ

লেখক: জাহিদুল ইসলাম

সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ তায়ালার জন্যে। দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তাঁর পরিবারবর্গ এবং সাহাবাগণের উপর।

সাধারণ ভাবে সকল মানুষ এবং বিশেষ ভাবে যুবক ও অবিবাহিতরা সবচেয়ে বড় যে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে, তাহলো অপরিচিতা মহিলার প্রতি দৃষ্টি প্রদান করা। তারা এই বিপদের সম্মুখীন সকল জায়গাতেই হচ্ছে। হাটে-বাজারে, হাসপাতালে, বিমানবন্দরে, এমন কি পবিত্র জায়গা গুলোতেও এ বিপদ থেকে মুক্ত নয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:

: مَا تَرَكْتُ بَعْدِي فِتْنَةً أَضَرَّ عَلَى الرِّجَالِ مِنْ النِّسَاءِ

“আমার পরে পুরুষের জন্যে মহিলাদের চেয়ে অধিক ক্ষতিকারক কোন ফিতনা রেখে যাই নি।” (বুখারী মুসলিম) তিনি আরও বলেছেন:

إِنَّ الدُّنْيَا حُلْوَةٌ خَضِرَةٌ وَإِنَّ اللَّهَ مُسْتَخْلِفُكُمْ فِيهَا فَيَنْظُرُ كَيْفَ تَعْمَلُونَ فَاتَّقُوا الدُّنْيَا وَاتَّقُوا النِّسَاءَ فَإِنَّ أَوَّلَ فِتْنَةِ بَنِي إِسْرَائِيلَ كَانَتْ فِي النِّساء

“নিশ্চয়ই এই দুনিয়া হচ্ছে সবুজ-শ্যামল, সুমিষ্ট। আল্লাহ তা’আলা ইহাতে তোমাদেরকে খলীফা (প্রতিনিধি) নিযুক্ত করেছেন এই জন্যই যে, তিনি দেখতে চান তোমরা কি আমল কর। অতএব তোমরা দুনিয়ার ফিতনা হতে বাঁচ এবং মহিলাদের ফিতনা থেকেও বেঁচে থাক। কেননা বনী ইসরাইলের মধ্যে সর্ব প্রথম যে ফিতনা (বিপদ) দেখা দিয়েছিল তা ছিল মহিলার ফিতনা।” (মুসলিম)

নিম্নে দৃষ্টি সংযত রাখার কতিপয় উপায় পেশ করা হল যা উক্ত বিপদজনক ফিতনা থেকে রক্ষা করতে সহায়ক হবে ইনশাআল্লাহ:

১) দৃষ্টি অবনত রাখা: হারাম বা নিষিদ্ধ জিনিষের প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ না করার ব্যাপারে রয়েছে বহু আয়াত ও হাদীস : যেমন,

  • আল্লাহ তা’আলা বলেন:

قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ذَلِكَ أَزْكَى لَهُمْ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ

“মু’মিনদেরকে বল, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে এবং তাদের লজ্জা স্থানের হেফাজত করে, এটা তাদের জন্যে পবিত্রতম; তারা যা করে সে বিষয়ে আল্লাহ অবিহিত।” (সূরা নূর: ৩০)।

  • নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:

إِنَّ اللَّهَ كَتَبَ عَلَى ابْنِ آدَمَ حَظَّهُ مِنْ الزِّنَا أَدْرَكَ ذَلِكَ لَا مَحَالَةَ فَزِنَا الْعَيْنَيْنِ النَّظَرُ وَزِنَا اللِّسَانِ النُّطْقُ وَالنَّفْسُ تَمَنَّى وَتَشْتَهِي وَالْفَرْجُ يُصَدِّقُ ذَلِكَ أَوْ يُكَذِّبُه

“নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা আদম সন্তানের উপর জেনার একটা অংশ অবধারিত করে দিয়েছেন। নিশ্চিতভাবে তা সে পাবে। সুতরাং চোখের জিনা হল দৃষ্টি দেয়া। জিহ্বার জিনা হল কথা বলা। আর অন্তর কামনা করে। লজ্জা স্থান তা সত্যে পরিণত করে, অথবা মিথ্যায় পরিণত করে।” অর্থাৎ লজ্জা স্থানের দ্বারা কেউ অশ্লীলতায় লিপ্ত হয় আবার কেউ তা থেকে বিরত থাকে। (বুখারী মুসলিম)।

  • সাহাবী জাবের বিন আব্দুল্লাহ (রা:) বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে মহিলার প্রতি হঠাৎ দৃষ্টি পড়ে যাওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন:

“তুমি তোমার দৃষ্টি ফিরিয়ে রাখ।” (মুসলিম ও আবু দাউদ)

  • রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলী (রা:) কে লক্ষ্য করে বলেছেন:

يَا عَلِيُّ لَا تُتْبِعْ النَّظْرَةَ النَّظْرَةَ فَإِنَّ لَكَ الْأُولَى وَلَيْسَتْ لَكَ الْآخِرَة

“হে আলী তুমি অপরিচিতা মহিলার প্রতি বার বার দৃষ্টি ফেলিও না। কেননা তোমার জন্যে প্রথমবার বৈধ হলেও দ্বিতীয় বার বৈধ নয়।” (তিরমিযী) হাদীসে উল্লেখিত প্রথমবার দৃষ্টি বৈধ হওয়ার উদ্দেশ্য হল, অনিচ্ছাকৃত বা হঠাৎ যেই দৃষ্টি পড়ে যায়; ইচ্ছাকৃত দেখা নয়।

২) আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করা এবং তাঁর সম্মুখে নিজেকে উপস্থিত রাখা:

এই কঠিন ফিতনা থেকে নিজেকে বাঁচানো ও হেফাজতে রাখার ব্যাপারে আল্লাহ তা’আলার কাছে বার বার প্রার্থনা করা।

  • মুসলিম শরীফে বর্ণিত হাদীসে কুদসীতে এসেছে:

يَا عِبَادِي كُلُّكُمْ ضَالٌّ إِلَّا مَنْ هَدَيْتُهُ فَاسْتَهْدُونِي أَهْدِكُمْ

“হে আমার বান্দাগণ! তোমরা সকলেই পথভ্রষ্ট, কিন্তু আমি যাকে হেদায়েত দেই সে নয়। সুতরাং আমার কাছে হেদায়েত চাও আমি তোমাদেরকে হেদায়েত দিব।” (মুসলিম)

  • আল্লাহ তা’আলা বলেন:

”এবং যখন আমার বান্দাগণ আমার সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করে, তখন তাদেরকে বলে দাও: নিশ্চয়ই আমি সন্নিকট বর্তী। কোন আহ্বানকারী যখনই আমাকে আহবান করে তখনই আমি তার আহবানে সাড়া দিয়ে থাকি। সুতরাং তারাও যেন আমার আহবানে সাড়া দেয় এবং আমাকে বিশ্বাস করে, তাহলেই তারা সঠিক পথে চলতে পারবে।” (সূরা বাকারাঃ ১)

  • রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর দুয়াতে বলতেন:

للَّهُمَّ اقْسِمْ لَنَا مِنْ خَشْيَتِكَ مَا يَحُولُ بَيْنَنَا وَبَيْنَ مَعَاصِيكَ

“হে আল্লাহ আমাদের অন্তঃকরণে আপনার ভয় দান করুন, যা আমাদের এবং আপনার নিষিদ্ধ পাপকাজের মাঝে প্রতিবন্ধক হবে।”

  • রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুয়াতে আরও বলতেন:

للَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ سَمْعِي وَمِنْ شَرِّ بَصَرِي وَمِنْ شَرِّ لِسَانِي وَمِنْ شَرِّ قَلْبِي

উচ্চারণ: (আল্লাহম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিন শাররি সাময়ী, ওয়া মিন র্শারি বাছারী, ওয়া মিন র্শারি লিসানী, ওয়া মিন র্শারি ক্বলবী।)

“হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আমার কর্ণ, আমার চক্ষু, আমার জিহ্বা এবং আমার অন্তরের অনিষ্ট থেকে পরিত্রাণ চাই।” (আবু দাউদ)। আল্লামা আলবানী (র:) অত্র হাদীছটিকে সহীহ বলেছেন।)

৩) সকল অবস্থায় আমাদেরকে পর নারীর প্রতি দৃষ্টি দেয়ার ব্যাপারে সবোর্চ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার চেষ্টা করতে হবে:

কেননা সর্বাবস্থায়, সর্ব ক্ষেত্রে ও সকল সময় হারামে পতিত হওয়া থেকে দৃষ্টি সংযত রাখা আবশ্যক। সুতরাং বাতিল দ্বারা দলীল সাব্যস্ত করার অধিকার তোমার নেই এবং এই বলেও তুমি নিজেকে পাক বলে দাবী করিও না যে, বর্তমানে চলমান কুপ্রথা আমাকে এই ভয়াবহ বিপদের প্রতি আহবান করছে। আল্লাহ তা’আলা বলেন:

وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْراً أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَه فَقَدْ ضَلَّ ضَلالاً مُبِينا

“আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোন বিষয়ে ফায়সালা করলে কোন মু’মিন পুরুষ কিংবা মু’মিন নারীর নিজেদের কোন ব্যাপারে অন্য কোন সিদ্ধান্তের ইখতিয়ার থাকবে না। কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অমান্য করলে সে তো স্পষ্টই পথভ্রষ্ট হবে।”(সূরা আহযাব ৩৬)

৪) আল্লাহ তাআলা আমাদের সম্পর্কে অবগত আছেন এবং তাঁর জ্ঞান দ্বারা আমরা পরিপূর্ণভাবে পরিবেষ্টিত। তাই তাঁর থেকে লজ্জা করা আবশ্যক:

  • আল্লাহ তা’আলা বলেন:

وَلَقَدْ خَلَقْنَا الْأِنْسَانَ وَنَعْلَمُ مَا تُوَسْوِسُ بِهِ نَفْسُهُ وَنَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْ حَبْلِ الْوَرِيدِ

“আমি মানুষ সৃষ্টি করেছি এবং তার মন নিভৃতে যে কুচিন্তা করে, সে সম্বন্ধেও আমি অবগত আছি। আমি তার গ্রীবা স্থিত ধমনী থেকেও অধিক নিকটবর্তী।”(সূরা ক্বাফঃ ১৬)

  • আল্লাহ তা’আলা আরও বলেন:

يَعْلَمُ خَائِنَةَ الْأَعْيُنِ وَمَا تُخْفِي الصُّدُور

“চোখের চুরি এবং অন্তরের গোপন বিষয় তিনি জানেন।” (সূরা মু’মিন ১৯)

  • রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন:

“আমি তোমাকে উপদেশ দিচ্ছি আল্লাহ তা’আলা থেকে লজ্জা করার জন্যে, যেমন ভাবে তুমি তোমার সম্প্রদায়ের একজন ভাল লোক থেকে লজ্জাবোধ কর।” (অত্র হাদীসটি হাসান বিন সুফইয়ান বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম আহমাদ (র:) কিতাবুয যুহুদের মধ্যে উল্লেখ করেছেন ও আল্লামা নাছির উদ্দিন আলবানী (র:) ইহাকে সহীহ বলেছেন।)

অতত্রব আল্লাহ তা’আলা থেকে লজ্জা করুন। আপনি আপনার দৃষ্টিকে অধিক হালকা মনে করে লাগামহীন ভাবে ছেড়ে দিবেন না।

৫) আপনার কান, চোখ এবং দেহের চামড়া আপনার আপনার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে:

  • এ সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা বলেন:

[حَتَّى إِذَا مَا جَاءُوهَا شَهِدَ عَلَيْهِمْ سَمْعُهُمْ وَأَبْصَارُهُمْ وَجُلُودُهُمْ بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ

“তারা যখন জাহান্নামের কাছে পৌঁছবে, তখন তাদের কান, চক্ষু, ও ত্বক তাদের কর্ম সম্পর্কে সাক্ষী দিবে।”(সূরা ফুসসিলাত (হা মীম সাজদাহ ২০)

  • সহীহ মুসলিমে আনাস (রা:) হতে বর্ণিত আছে , তিনি বলেন:

“একদা আমরা আল্লাহর রাসূলের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাছে উপবিষ্ট ছিলাম, তখন তিনি হাসলেন। অতঃপর বললেন, “তোমরা কি জানো আমি কেন হাসলাম?” আনাস (রা:) বলেন, আমরা বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভাল জানেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আল্লাহর সামনে বান্দার কথোপকথন শুনে হাসলাম। সে বলবে, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে জুলুম থেকে পরিত্রাণ দিবেন না? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আল্লাহ বলবেন, হ্যাঁ অবশ্যই! তখন সে বলবে, আমার বিরুদ্ধে আমার নিজের ভিতর থেকে কোন সাক্ষী ছাড়া অন্য কারও সাক্ষ্য গ্রহণ করব না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তখন আল্লাহ বলবেন, “আজ তোমার বিরুদ্ধে তোমার নিজের আত্মা এবং সম্মানিত লেখকগণই (ফেরেশতা) সাক্ষী হিসেবে যথেষ্ট।” অত:পর তার মুখে তালা লাগিয়ে দেয়া হবে এবং তার অঙ্গসমূহকে কথা বলার আদেশ দেয়া হবে, তখন তার অঙ্গসমূহ তার কৃতকর্ম সম্পর্কে বলতে শুরু করবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “অতঃপর তাকে তার অঙ্গ প্রত্যঙ্গের সাথে কথা বলার জন্যে ছেড়ে দেয়া হবে। এক পর্যায়ে সে অঙ্গ প্রত্যঙ্গকে লক্ষ্য করে বলবে, ধ্বংস হও তোমরা, আফসোস, তোমাদের জন্যেই তো আমি এতো পরিশ্রম করতাম।” (মুসলিম)

উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা এটাই প্রমাণ হয় যে, যে চক্ষু দ্বারা আপনি হারাম জিনিস দেখে মানসিক তৃপ্তি লাভ করছেন তা কাল কিয়ামতে আপনার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে। অতএব আপনার চক্ষুকে হারামে পতিত হওয়া থেকে বিরত রাখুন।

৬) স্মরণ করুন ঐ সমস্ত ফেরেশতাদেরকে যারা আপনার প্রতিটি আমলকে সংরক্ষণ করে রাখছে:

  • আল্লাহ তা’আলা বলেন:

: مَا يَلْفِظُ مِنْ قَوْلٍ إِلَّا لَدَيْهِ رَقِيبٌ عَتِيد

“সে যে কথাই উচ্চারণ করে, তাই গ্রহণ করার জন্যে তার কাছে সদা প্রস্তুত প্রহরী রয়েছে।” (সূরা ক্বাফ ১৮)

  • আল্লাহ তা’আলা আরও বলেন:

وَإِنَّ عَلَيْكُمْ لَحَافِظِينَ ,كِرَاماً كَاتِبِينَ , يَعْلَمُونَ مَا تَفْعَلُونَ

“নিশ্চয়ই তোমাদের উপর তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত আছে। সম্মানিত আমল লেখকবৃন্দ। তারা জানে যা তোমরা কর।” (সূরা ইনফিত্বারঃ ১০-১২)

৭) স্মরণ করুন ঐ জমিন কে যার উপরে থেকে আপনি গুনার চর্চা করে চলছেন:

  • মহান আল্লাহ তা’আলা বলেন:

يَوْمَئِذٍ تُحَدِّثُ أَخْبَارَهَا

“সেদিন (জমিন) তার বৃত্তান্ত বর্ণনা করবে।” (সূরা যিলযাল: ৪)

  • এই আয়াতের ব্যাখ্যা সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:

فَإِنَّ أَخْبَارَهَا أَنْ تَشْهَدَ عَلَى كُلِّ عَبْدٍ أَوْ أَمَةٍ بِمَا عَمِلَ عَلَى ظَهْرِهَا أَنْ تَقُولَ عَمِلَ كَذَا وَكَذَا يَوْمَ كَذَا وَكَذَا قَالَ فَهَذِهِ أَخْبَارُهَا

“জমিন তার গর্ভাস্থিত বিষয়কে বলে দেয়ার অর্থ হল, কিয়ামতের দিন মহিলা ও পুরুষ প্রত্যেক বনী আদমের বিরুদ্ধে সাক্ষী দিবে যা তার উপরে থেকে করা হয়েছে। জমিন বলবে, উমুক দিন উমুক কাজ আমার উপর থেকে করেছে।”(তিরমিযী)

৮) বেশী বেশী নফল ইবাদত করা:

কেননা ফরয ইবাদতের পাশাপাশি বেশী বেশী নফল ইবাদত করলে আল্লাহ তাঁর বান্দার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে হেফাজতে রাখেন। যেমন,

  • হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ তা’আলা বলেন: “যে ব্যক্তি আমার কোন অলীর সাথে শত্রু“তা পোষণ করবে, আমি অবশ্যই তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করব। আমার বান্দা যে সব ইবাদতের মাধ্যমে আমার নৈকট্য হাসিল করে থাকে, তার মধ্যে ঐ ইবাদতের চেয়ে আমার কাছে আর অধিক প্রিয় কোন ইবাদত নেই, যা আমি তার উপর ফরজ করেছি। বান্দা নফল ইবাদতের মাধ্যমে সর্বদা আমার এতটুকু নৈকট্য অর্জন করতে থাকে, যার কারণে আমি তাকে ভালবাসতে শুরু করি। আমি যখন তাকে ভালবাসতে থাকি তখন আমি তার কান হয়ে যাই, যার মাধ্যমে সে শুনে, আমি তার চোখ হয়ে যাই যার মাধ্যমে সে দেখে, আমি তার হাত হয়ে যাই, যার মাধ্যমে স্পর্শ করে এবং আমি তার পা হয়ে যাই, যার মাধ্যমে সে চলাফেরা করে। সে যদি আমার কাছে কিছু চায়, আমি তাকে দিয়ে দেই। সে যদি আমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে আমি তাকে আশ্রয় প্রদান করি।” (বুখারী)

৯) বিবাহ করা: কেননা বিবাহই হল কুদৃষ্টি থেকে বেঁচে থাকার সবচেয়ে বড় চিকিৎসা এবং উত্তম পন্থা।

  • রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:

يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ مَنْ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَهُ وِجَاءٌ

“হে যুবক সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যে বিবাহ করার শক্তি রাখে সে যেন বিবাহ করে। কেননা ইহা চক্ষু এবং লজ্জা স্থানের হেফাযতকারী। আর যে ব্যক্তি বিবাহ করার শক্তি না রাখে সে যেন রোযা রাখে। ইহা তার জন্যে ঢাল স্বরূপ।” (বুখারী ও মুসলিম)

১০) বান্দার প্রতি আল্লাহর তাআলার প্রতিটি নেয়ামতের স্মরণ করা এবং তার উপযুক্ত শুকরিয়া করা:

সুতরাং মানুষ চোখকে ভাল ও শরীয়ত সম্মত কাজে ব্যয় করলে এবং হারাম ও নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকলে এতে তার এই নেয়ামতের শুকরিয়া করা হল। আর যখন উহাকে হারাম ও নিষিদ্ধ বস্তুর মধ্যে ছেড়ে দিল তখন সে এই নেয়ামতের কুফরী করল এবং অকৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করল।

১১) অধিক হারে আল্লাহ তাআলার যিকির করা:

কেননা যিকিরই হল শয়তান থেকে বেঁচে থাকার কারণ। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:

وَآمُرُكُمْ أَنْ تَذْكُرُوا اللَّهَ فَإِنَّ مَثَلَ ذَلِكَ كَمَثَلِ رَجُلٍ خَرَجَ الْعَدُوُّ فِي أَثَرِهِ سِرَاعًا حَتَّى إِذَا أَتَى عَلَى حِصْنٍ حَصِينٍ فَأَحْرَزَ نَفْسَهُ مِنْهُمْ كَذَلِكَ الْعَبْدُ لَا يُحْرِزُ نَفْسَهُ مِنْ الشَّيْطَانِ إِلَّا بِذِكْرِ اللَّهِ

“আমি তোমাদেরকে আল্লাহর যিকির করার আদেশ দিচ্ছি। কেননা যে আল্লাহর যিকির করে তার উদাহরণ হল ঐ ব্যক্তির ন্যায় যাকে আক্রমণ করার জন্য শত্রু তার পিছু ধাওয়া করছে। শত্রু থেকে আত্মরক্ষার জন্যে সে একটি সুরক্ষিত প্রাচীরের মধ্যে আশ্রয় নিল এবং শত্রু“র আক্রমণ থেকে বেঁচে গেলো। এমনভাবে বান্দাকে কোন জিনিস শয়তান থেকে রক্ষা করতে পারে না একমাত্র আল্লাহর যিকির ছাড়া।” (তিরমিযী)

যখন আপনি এই ফিতনার সম্মুখীন হবেন তখন আল্লাহকে বেশী করে স্মরণ করুন। কেননা এই স্মরণ দ্বারা যেন আপনি শয়তানকে বিতাড়িত করতে পারেন এবং তার থেকে মুক্তি লাভ করতে পারেন। আল্লাহর যিকির মানুষের অন্তরকে কুদৃষ্টি থেকে ফিরিয়ে রাখে। বান্দা যখন আল্লাহর যিকির করে তখন এই যিকির তাঁর ভয় ও তাঁর থেকে লজ্জার কারণ হেতু বান্দার কুদৃষ্টির মাঝে এবং আল্লাহর মাঝে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়।

১২) জান্নাতে হুরদের কথা স্মরণ করুন:

যেন আপনি হারাম জিনিস থেকে দূরে থেকে অতি সহজেই উহা লাভ করতে পারেন।

  • রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:

وَلَوْ أَنَّ امْرَأَةً مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ اطَّلَعَتْ إِلَى أَهْلِ الْأَرْضِ لَأَضَاءَتْ مَا بَيْنَهُمَا وَلَمَلَأَتْهُ رِيحًا وَلَنَصِيفُهَا عَلَى رَأْسِهَا خَيْرٌ مِنْ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا

“জান্নাতের কোন একজন রমণী যদি দুনিয়া বাসীর দিকে একবার উকি দিত তাহলে দুনিয়ার সকল বস্তুকে আলোকিত করে ফেলত এবং সুঘ্রাণে পরিপূর্ণ হয়ে যেত, আর তার মাথার ওড়না দুনিয়া এবং উহার মধ্যবর্তী সকল বস্তু হতে অতি উত্তম। ( বুখারী )

  • আবু হারায়রা (রা:) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:

لِلرَّجُلِ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ زَوْجَتَانِ مِنْ حُورِ الْعِينِ عَلَى كُلِّ وَاحِدَةٍ سَبْعُونَ حُلَّةً يُرَى مُخُّ سَاقِهَا مِنْ وَرَاءِ الثِّيَابِ

“প্রত্যেক পুরুষের জন্যে জান্নাতে দু’জন করে রমণী থাকবে। প্রত্যেক রমণীর জন্যে থাকবে সত্তরটি করে পোশাকের সুট, সৌন্দর্যের কারণে পোশাকের ভিতর থেকে তাঁর হাড়ের ভিতরের মগজ প্রকাশ পাবে।” (আহমাদ)

যে হারাম থেকে তার দৃষ্টিকে ফিরিয়ে রাখবে আল্লাহ তা’আলা তার পরিবর্তে তার চেয়ে অনেক উত্তম জিনিস ব্যবস্থা করে দিবেন।

  • রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:

إِنَّكَ لَنْ تَدَعَ شَيْئًا لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ إِلَّا بَدَّلَكَ اللَّهُ بِهِ مَا هُوَ خَيْرٌ لَكَ مِنْه

“যখন তুমি আল্লাহর উদ্দেশ্যে কোন কিছুকে ত্যাগ করবে, তার পরিবর্তে আল্লাহ তা’আলা তোমাকে উত্তম জিনিষ দান করবেন।” (আহমাদ)

পরিশেষে আল্লাহ তা’আলার কাছে প্রার্থনা জানাই, তিনি আমাদের সকলকে এই প্রকার কুদৃষ্টি থেকে বেঁচে থাকার পূর্ণ তাওফীক দান করেন। দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী তাঁর পরিবারবর্গ এবং সকল সাহাবাদের উপর।